কম বেশি আমরা সবাই জানি যে গুগল অ্যাডসেন্স হচ্ছে অনলাইনে আয় করার সহজ এবং নির্ভরযোগ্য অয়ে। এখানেই হয়েছে যতো ঝামেলা! সহজ জিনিসটারে আমরা বাঙ্গালী এবং ইন্ডিয়ানরা ত্যানা পেঁচাইয়া শক্ত করে ফেলছি। ২০১১ সালের আগে যারা অ্যাডসেন্স পাবলিশার ছিলেন কিংবা আছেন, তারা দেখেছি যে এমনও সময় ছিল ব্লগস্পটে ৫-৭ টা কপি পেস্ট টিউন দিয়েও নন হস্টেড অ্যাডসেন্স এপ্রুভ হতো আজ অ্যাডসেন্স সোনার হরিণ...
সবই আমাদের কুকাম আকাম আর বারাবারির কারনেই হয়েছে। সম্ভবত টেকটিউনে ২০১২ সালের দিকে কোন এক বড় ভাইয়ের টিউন দেখেছিলাম যে “অ্যাডসেন্স ব্যবহারকারীরা সাবধান। ব্যান এড়াতে এদিকে আসুন” এই টাইপের টিউন হয়েছিলো। ওইদিন বাংলাদেশে একদিনেই প্রায় ২০০+ অ্যাডসেন্স একাউন্ট ব্যান করা হয়েছিলো।
কেন ???
আমাদের উরাধুরা স্পামিং আর লো কুয়ালিটি সাইটের কারনেই গুগল এমন শিক্ষা দিয়েছিলো। সকলেই গণহারে ব্যান খাওয়ার মিশনে ছিল। হ্যাঁ আমি নিজেও ২০১০-২০১২ তে ১৬ মাসে ১১ টা একাউন্ট সাসপেন্ড খাইছিলাম। আমার নিজের এবং ফ্যামিলি আত্মীয়-স্বজনদের অনেকের নামেই একাউন্ট এপ্রুভ করে চালাইতাম। এমন কোন পাবলিশার ছিল না যে কারো ২-৪ টা একাউন্ট নাই। আজ সেটা সোনার হরিণ নামে পরিচিত।
ফলাফলঃ গুগল হার্ট হয়ে গেলো আর আমরা টাকা তোলার আগেই ব্যান খাইতাম কপাল না কুকামের ফসল...
মানে গুগল পলিসি নষ্ট করার শাস্তি... হ্যাঁ আমি নিজেও ৩৪৭ ডলার ব্যান খাইয়া গুগল প্রোডাক্ট ফোরামে গুগল অ্যাডসেন্স এই থ্রেড টিউন দিছি। ছেসা খাইয়া তারপরে থেকেই সঠিক লাইনে হাটা শুরু করেছি। মনে খালি ভয় হতো কখন লগিন দিয়ে দেখি ডিসাবল ? অ্যাডসেন্স লগইন দেওয়ার আগে বিসমিল্লাহ্ কইতাম একাউন্ট তাজা থাকলে আলহামদুলিল্লাহ্ কইতাম।
বুঝেন কতো আতংকে থাকতাম ??? সেই থেকে আর কোনদিন গুগল পলিসির সাথে চালাকি করার চিন্তা মাথায় আসতেও চায় নাই। আসেও না। আজ ২০১৬ সাল এখন গুগল আমাকে ব্যান করতে চাইলেও চান্স নাই বার বার ব্যান খাওয়া সেই আমি গুগল অ্যাডসেন্সকে টোটাল ৪০+ ওয়েবসাইট দিয়ে লাইফটাইম ১০ কোটি+ অ্যাড ইম্প্রেশন দিয়েছি | মাথায় আগের মতো কুকামের চিন্তা থাকলে ১০ বছরেও হতো না।
আজ বর্তমানের বাংলাদেশী স্পামাররা যা করছে, গুগলকে আরও শক্ত করে দিয়েছে নিজে নিজে ক্লিক করে, ক্লিক একচেঞ্জের গ্রুপ খুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে স্প্যাম ট্রাফিক দিয়ে হাজার হাজার ডলার আয় করে। কেউ কেউ হট ১৮+ ***কিং ইমেজ ভিডিও দেখাইয়া ট্রাফিক ড্রাইভ করে। হাগার হাগার ডলার কামায়। হারাম আয়ের পাহাড় তৈরি করার চেষ্টায় ডুবে থাকে।
ফলাফল : কয়েকদিন পরেই একাউন্ট সাসপেন্ড আসলে এদের কারোই একাউন্টই ২-৪ মাসের বেশি থাকে না। তারা ব্যান খাবে ওই চিন্তা করেই অ্যাডসেন্স চালায়! (কতো সাহস রে ভাই)।আর বাঙ্গালীরাই ক্রিমিনালিভাবে/অ্যামেরিকান ইনফো দিয়ে একাউন্ট এপ্রুভ করে বেবসা শুরু করেছে। গুগল প্রতি বছর হুদাই লাখ লাখ একাউন্ট ব্যান করে নাহ।
#গুগল তার পলিসিতে খুবই কঠোর কোন আলতু - ফালতু - কুকামের মাফ নাই ব্যান পার্টিতে যাইতেই হবে।
আরে ভাই! মানুষ সফলতা দেখে। অনেকেই ইন্সপায়ার হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতে যখন লাখ লাখ ট্রাফিক স্ক্রিনশট মানুষরে দেখাই, সবাই খুব বাহবা দেয়। টিপস চায়, বস বস করে। কিন্তু কেউ বুঝলেও চিন্তা করে না যে এই লাখ লাখ কোটি ট্রাফিক গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে আনার জন্য কতো পরিশ্রম গেছে! কতো চিন্তা! রিসার্চ আর কুয়ালিটি কন্টেন্টের পিছনে ইনভেস্ট গেছে। এখনো কুয়ালিটি কন্টেন্টে ইনভেস্ট রেগুলার যায়। বিগত ৫ টা বছরের নির্ঘুম রাতের পর রাত চেষ্টা, ভুল আর ফেইলার হতে হতেই সঠিক রাস্তায় হাঁটতে শিখেছি। কই আমাদের সময় তো ফেসবুকে তেমন গ্রুপ ছিল না! হেল্প পাওয়া তো পরের কথা গুগল সার্চ করেই নানারকম ব্লগ, ফোরাম পড়ে সমাধান বের করতে হতো।
এমনও হয়েছে ৫ টা সাইটের প্ল্যান কাজ ভোগে যাওয়ার পরেও ৬ নং সাইট থেকে মাসে ১০০-২০০ ডলার পেয়েও বিশাল খুশী হইতাম। আসলে আমি নিজেই বার বার ফেইলার হয়ে হয়েই শিখেছি। আর বাংলাদেশে যারা টেক ব্লগে সিনিয়রা ছিলেন। তারাও বিনা পয়সায় অনেক হেল্প করতো ম্যাসেজে পিএম পিএম করে না ভাই তারা হেল্প করতো তাদের ব্লগে টিউন দিয়ে। সঠিক গাইডলাইন দিয়ে। আমরা না বুঝলে ব্লগেই টিউমেন্ট করে উত্তর পেতাম। তারাও অনেক আন্তরিক ছিল! কেন জানেন ? কারন আমরা তাদেরকে বিরক্ত করতাম না। একটা প্রশ্ন করার আগে ১০ বার ভাবতাম, ভাই যদি রাগ করে?
পার্সোনালভাবে কারো হেল্প লাগলেও সালাম এবং ভালো মন্দ জিজ্ঞাস করার পর বলতাম ভাই কি ফ্রী আছেন? যদি কিছু মনে না করেন ৫-১০ মিনিট সময় একটু সাহায্য করবেন প্লীজ সিরিয়াস! এমনটাই ওইসময়ে সিনিয়রদের কাছে আমরা হেল্প চাইতাম। তাদের অল্প ২-৪ লাইনের বানী পেলেই ২-৪ মাস কাজ করার সমধান পাইতাম। কয়েকদিন আগেই দেখলাম বাংলাদেশের অনলাইন প্রফেশনের মোস্ট সিনিয়র ভাইয়ের টিউন এরকম।
“একটা সময় ছিল এসইও ফোরামে প্রশ্ন করে উত্তর পেলে, সেটা বাইবেল মনে করতাম। আর এখন প্রশ্নকারী নানারকম মানুষদের উত্তর পেলেও কনফিউসড হয়ে যায় (এটাই বর্তমানের বাস্তবতা)
আর এখন বর্তমানের মানুষদের হেল্প চাওয়ার স্টাইল কি জানেন ?
হেলো! হাই ব্রু, ব্রা, ব্র :
অয় ভাই ? কিছু এসইও টিপস দেন। কিছু ব্যাকলিঙ্ক এর লিস্ট দেন। আমার সাইটে ভিজিটরস আনার বুদ্ধি দেন। এরা হেল্প চায় নাকি হুকুম করে সেটাও বুঝা কষ্ট। আবার রিপ্লাই না দিলে বলে ভাব নেন নাকি। লোল! ভাব নেওয়ার টাইম কই পাইলাম ভাই? কাজের চাপে তো ঘুম আর খাওয়ার সময়ের হিসাব মিলাতে পারি না। আমাদেরকেও কাজ করে কামাইতে হয়, সোশ্যাল মিডিয়াতে বক বক করে ধান্দামি করার টাইম নাই। কাজের চাপে বিজি থাকলেও, এই সেই বলে ম্যাসেজ দিতেই থাকে বক বক হাই হাই ব্রা ব্রা করতেই থাকে।
আফসোস!
শেষকথাঃ সিরিয়াস বলছি আমি খুবই কম জানি ভাই। জানতে চাই বলেই এখনো কিছু না কিছু শিখেই যাচ্ছি। আমার সবচেয়ে বড় বদ অভ্যাসটাই হচ্ছে রিসার্চ করি বেশি, চিন্তা করি বেশি কিন্তু কাজ করি কম। আমি সফল নই :) সফলতার পথে হাঁটছি... আলহামদুলিল্লাহ্। অতএব যারা স্প্যামিং শিখাইয়া টাকা কামাচ্ছে তারাই বড় কুলাঙ্গার। জানি যে আমার তিতা কথায় অনেকেরই আঘাত লাগছে, তবুও কিছুই করার নাই ভাইয়েরা।কারন আমি ২ পয়সা ধান্দা করার আশায় কমিনিটিতে আসি না, উচিৎ কথা বলতে একটু বেশীই বলি।
0 comments: